মায়োপিয়া ও হাইপারমেট্রোপিয়া বাংলাদেশে বেশ পরিচিত দুইটি সমস্যার নাম। এছাড়া চোখে ছানি পড়াতেও বাংলাদেশের অনেক মানুষকেই আক্রান্ত হতে দেখা যায়। এসব বেশ সাধারণ সমস্যা ছাড়াও চোখের নানা রকম গুরুতর সমস্যার সমাধানের বিষয়টি দেখভাল করেন একজন চোখের ডাক্তার বা অপথালমোলজিস্ট।

একজন অপথালমোলজিস্ট কোথায় কাজ করেন?

সরকারি পর্যায়ে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে টারশিয়ারি পর্যায়ের হাসপাতাল পর্যন্ত সব ধরনের হাসপাতালেই একজন অপথালমোলজিস্ট কাজ করতে পারেন। সরকারি এবং বেসরকারি – দুই ধরনের হাসপাতাল বা প্রতিষ্ঠানেই অপথালমোলজিস্ট নিযুক্ত থাকেন। অপথালমোলজিস্ট হিসেবে আপনি কাজ করতে পারবেন এমন কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান হল –

১। জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইন্সটিটিউট

২। উপজেলা, সদর, জাতীয় ও সরকারি মেডিকেল কলেজ অথবা হাসপাতাল

৩। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

৪। যে কোন বেসরকারি হাসপাতাল এবং চোখের চিকিৎসা ও গবেষণার উপর বিশেষায়িত কোন প্রতিষ্ঠান। যেমন – হারূন আই ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ আই হসপিটাল, ইসলামিয়া ইস্পাহানী আই কেয়ার ফাউন্ডেশন, গাউসুল আজম বিএনএসবি আই হসপিটাল প্রভৃতি।

একজন অপথালমোলজিস্ট কী ধরনের কাজ করেন?

অর্থোপেডিক চিকিৎসক হিসেবে আপনাকে সাধারণত নিম্নলিখিত কাজগুলো করা লাগবে –

১। মায়োপিয়া ও হাইপারমেট্রোপিয়া জাতীয় সাধারণ সমস্যা সনাক্ত করা এবং সে অনুযায়ী প্রতিকার হিসেবে চশমা ও চোখের লেন্সের পরামর্শ দেওয়া।

২। চোখের ছানি সনাক্ত করা এবং অপারেশন করা।

৩। চোখে অ্যালার্জি সংক্রমণের সমস্যার সমাধান দেওয়া এবং সে অনুযায়ী প্রতিকার হিসেবে চোখের ড্রপের নাম উল্লেখ করে পরামর্শ দেওয়া।

৪। অপথালমোস্কোপ ও চক্ষুবিজ্ঞানের অন্যান্য যন্ত্র পরিচালনা করা এবং চোখের অভ্যন্তরীণ সমস্যা খুঁজে বের করা।

৫। অনেকের চোখের অভ্যন্তরীণ গঠনে সমস্যা থাকে। এক্ষেত্রে আপনাকে তা সনাক্ত করার পাশাপাশি সে অনুযায়ী প্রতিকারের পথ বাতলে দিতে হয়।

৬। চোখের সমস্যার ক্ষেত্রে সার্জারি ও অপারেশন করতে হয়।

৭। কর্নিয়া ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা প্রতিস্থাপনের কাজ করা।

একজন অপথালমোলজিস্টের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

অপথালমোলজিস্ট হিসেবে কাজ করতে চাইলে আপনাকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভের পরে এমডি বা এমএস, এফসিপিএস, ডিপ্লোমা, এমসিপিএস প্রভৃতি ডিগ্রি অর্জন করতে হবে। অপথালমোলজিস্ট হিসেবে কাজ করতে চাইলে নিয়োগের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসাশাস্ত্রের অন্যান্য ক্ষেত্রের মতই অপথালমোলজির ক্ষেত্রেও গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী ডিগ্রি ও অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে পদোন্নতি হয় এবং উপরের পদগুলোতে প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়।

একজন অপথালমোলজিস্টের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

১। চক্ষুবিদ্যা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে গভীর ধারণা থাকতে হবে।

২। কর্নিয়া ও চোখের অভ্যন্তরীণ গঠন ও সম্ভাব্য সমস্যা নিয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা জরুরি।

৩। চোখের ড্রপ নিয়ে নিয়মিত ও যথেষ্ট ধারণা থাকতে হবে।

৪। চোখের সার্জারি একটি স্পর্শকাতর বিষয় বিধায় অপারেশনের সময় সতর্কতা অবলম্বন করা বাঞ্ছনীয়।

একজন অপথালমোলজিস্টের মাসিক আয় কেমন?

বাংলাদেশে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণত অভিজ্ঞতা ব্যতীত নিয়োগ পেলে আপনার মাসিক সম্মানী হবে ২০০০০ টাকা থেকে ৪০০০০ টাকার মত। অভিজ্ঞতা আছে এমন ব্যক্তিদের মাসিক সম্মানী শুরু হয় মাসিক প্রায় ৫০০০০ টাকা থেকে। সময় ও অভিজ্ঞতার সাথে আপনার মাসিক আয় বেড়ে ৭০ হাজার টাকা কিংবা তার অধিকও হতে পারে। চোখের ছানির অপারেশন বেশ পরিচিত একটি ব্যাপার তাই এক্ষেত্রে সার্জারির সংখ্যা বেশি হয়। অপথালমোলজিস্টের মাসিক আয়ের পরিমাণও তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে বেশি হয়।

সরকারি কর্মক্ষেত্রে আপনার মাসিক সম্মানী নির্দিষ্ট করা থাকবে জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী। এক্ষেত্রে আপনার মাসিক সম্মানী শুরু হবে ৬ষ্ঠ স্কেল বা ৪৩০০০ টাকা থেকে। আপনি আলাদাভাবে নিজের চেম্বারে রোগী দেখার ব্যবস্থা রাখলে সেক্ষেত্রে আপনার মাসিক আয় আরও বেশি হবে যেহেতু মায়োপিয়া, হাইপারমেট্রোপিয়া ও ছানির সমস্যা বাংলাদেশে অহরহ দেখা যায়। এছাড়া চোখে অ্যালার্জি ও অন্যান্য সমস্যাও বহুসংখ্যকবার দেখা যাওয়ায় অপথালমোলজিস্টের কাজের পরিধি বেশ বড়।

একজন অপথালমোলজিস্টের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

হাসপাতালের ক্ষেত্রে একজন অপথালমোলজিস্টের ক্যারিয়ারের পদবিন্যাস সাধারণত নিম্নলিখিত পদগুলো অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে এগোয় –

১। জুনিয়র কনসালট্যান্ট

২। সিনিয়র কনসালট্যান্ট

এক্ষেত্রে নিয়োগের পরে আপনার প্রথম পদ হবে জুনিয়র কনসালট্যান্ট। সাধারণত অল্প অভিজ্ঞতা আছে এবং অন্তত একটি ব্যাচেলর পরবর্তী ডিগ্রি আছে এমন ব্যক্তিদেরকে জুনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। জুনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করতে হলে অবশ্যই আপনাকে বিশেষজ্ঞ হতে হবে। কিছু সময় অভিজ্ঞতা লাভের পরে এবং নতুন কোন উচ্চ শিক্ষার ডিগ্রি লাভের মাধ্যমে আপনি সিনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে পদোন্নতি পাবেন।

মেডিকেল কলেজ, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইন্সটিটিউট ও বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে (কিংবা যে কোন জায়গায় শিক্ষকতার ক্ষেত্রে) আপনার পদবিন্যাস সহকারী অধ্যাপক থেকে শুরু হয়ে সহযোগী অধ্যাপক পদে উন্নীত হওয়ার মাধ্যমে সর্বোচ্চ অধ্যাপক পর্যন্ত যেতে পারে।

কোথায় পড়বেন অপথালমোলজি?

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেশ কিছু সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজেও অপথালমোলজি বিষয়ের উপর গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী ডিগ্রি (যেমন – এফসিপিএস, ডিপ্লোমা, এমডি বা এমএস, এমসিপিএস প্রভৃতি) প্রদান করা হয়। সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইন্সটিটিউট উল্লেখযোগ্য। বেসরকারি মেডিকেল কলেজের মধ্যে উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে ইবরাহিম মেডিকেল কলেজ এবং অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চট্টগ্রাম আই ইনফার্মারি ও ট্রেনিং কমপ্লেক্স, ইসলামিয়া আই হসপিটাল, লায়ন্স আই হসপিটাল উল্লেখযোগ্য।

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here